শিরোনাম
মোঃ শোয়াইব , হাটহাজারী | ০৫:৫৫ পিএম, ২০২৫-০১-১১
হাটহাজারীতে সমাজসেবা কার্যালয়ে অনগ্রসর জনগোষ্ঠির শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা বিতরণে চরম অনিয়ম। শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা কারা পায় তথ্য দিতে নারাজ সমাজসেবা কর্মকর্তা। হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থানকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী সিন্ডিকেট চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। টাকা ছাড়া মেলে না শিক্ষা উপবৃত্তি। অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরদের উপবৃত্তির টাকা নয়ছয়ের অভিযোগও তুলেছেন তারা। শুধু তাই নয়, এসব অনিয়মের খবর যাতে বাইরে প্রকাশ না হয় সে জন্য ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের দেওয়া হয় না ট্যাবের পাসওয়ার্ড।
হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে উপজেলা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৩২ জন। তার মধ্যে পাকপ্রাথমিকের ১২ জন, মাধ্যমিকে ৮ জন, উচ্চ মাধ্যমিকে ৮ জন এবং উচ্চতর পর্যায়ে ৪ জন শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষা উপবৃত্তির প্রাথমিক স্তরে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা করে প্রদান করে আসছে সরকার।
হাটহাজারী উপজেলা ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ও ৩নং ওয়ার্ড উদালিয়া গ্রামের মনাই ও সোনাই ত্রিপুরাপাড়ার শিক্ষার্থীরা জানান, ওয়ার্ড ভিন্ন হলেও শিক্ষা উপবৃত্তিও কি ভিন্ন হয়? সোনাইত্রিপুরা পাড়ার প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা পায় ২০০০ টাকা, মাধ্যমিকরা পায় ৫০০০ টাকা এবং কলেজেররা পায় ৮০০০ টাকা। কিন্তু মনাইত্রিপুরা পাড়ার সব শিক্ষার্থীদেরকে দেয়া হয় ২০০০ টাকা ভিন্ন কেন এমন প্রশ্ন তাদের?
সমাজসেবা অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী। একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন ধরে কাজের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। এই সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে উপজেলার প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তিসহ অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির তালিকা। সিন্ডিকেট চক্রকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে তালিকায় নাম ওঠে না। আবার তালিকায় নাম থাকার পরও সিন্ডিকেট চক্রকে উৎকোচ দিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারলে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয় বলে জানান সচেতন মহল।
হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড উদালিয়া গ্রামের সোনাই ত্রিপুরাপাড়ার হাটহাজারী কৃষি ডিপ্লোমা ইনিস্টিউটের দ্বিতীয় সেমিস্টারে পডুয়া প্রেম কুমার ত্রিপুরা ও নাজিরহাট ডিগ্রী কলেজে পড়ুয়া সুজন ত্রিপুরা বলেন, আমরা আমাদের দূর্গাপূজার সময় উপজেলা থেকে মাত্র ৮ হাজার টাকা পেয়েছি তাও আবার অনেক কষ্ট করে পেলেও সেখান থেকেও টাকা কেটে রেখেছে। আর কোন টাকা পায়নি। তবে আমাদের পাড়ার প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষার্থীরা ২০০০ টাকা আর মাধ্যমিকে ৪০০০ টাকা করে পেয়েছে কিন্তু আমাদের সবাইকে দিয়েছে ২০০০ টাকা করে।
মনাই ত্রিপুরা পাড়ার শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের পাড়ার সচিন ত্রিপুরার ছেলের টাকা তার বাবা নিয়ে আসছেন। আমাদেরকে সবাইকে ২০০০ টাকা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের পাড়ার পাশের সোনাই ত্রিপুরা পাড়ার শির্ক্ষাথীরা প্রাথমিক ২০০০ টাকা, মাধ্যমিক ৪০০০ টাকা এবং কলেজের ৮০০০ টাকা করে। তাহলে আমরা কেন এমন বৈষ্যমের শিকার হলাম। এছাড়াও অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষা উপবৃত্তির তালিকায় উপকারভোগী হিসেবে অভিভাবকের নাম, গ্রামের নামসহ সব ঠিক থাকলেও ঠিক নেই শুধু মোবাইল নম্বরটি। সেখানে দেওয়া হয়েছে অন্য একটি নম্বর। টাকা যাচ্ছে সেই নম্বরে। এরকম আরও অনেক উপকারভোগীর নাম তালিকায় থাকার পরও টাকা পাচ্ছেন না তারা। অন্যদিকে তালিকায় নাম নেই অথচ নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন অনেকেই। আবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অনেকেই বেশ কয়েকবার টাকা পেলেও হঠাৎ করেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে।
মনাই ত্রিপুরা পাড়ার সচিন ত্রিপুরার ছেলে বলেন, আমি উপজেলায় যায়নি। আমি উদালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি। আমার বাবা উপজেলা থেকে উপবৃত্তির টাকা নিয়ে আসছে তাই কত টাকা পেয়েছে বলতে পারছিনা।
ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন সমাজকর্মী লক্ষী রানী পাল বলেন, সরকারিভাবে আমরা একটি করে ট্যাব পেয়েছি। কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পাসওয়ার্ড না দেওয়ায় এখন সেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। পাসওয়ার্ড না থাকায় উপজেলার ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের কেউই সেগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না।
হাটহাজারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তির সুবিধাভোগীদের তালিকা আমরা অনলাইনে প্রেরণ করি। সেখানে তাদের মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়। সেই নাম্বারে টাকা যায়। এখানে আমরা এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানি না। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১২০০ টাকা করে দেয়া হয়। তবে কতজনে টাকা পায় সেটি বলতে পারব। কিন্তু তাদের নামের তালিকা দিতে পারব না। পরে আসেন বাকি সব তথ্য দেবো। এরপর বার বার যোগাযোগ করেও কোন তথ্য তিনি দিতে রাজি নন। এরপর কথা হয় চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সমাজসেবা অফিসার রেজি:) সোহানুর মোস্তফা শাহারিয়ার। তিনি বলেন, কতজনে টাকা পায় সেটি বলা যাবে। তবে কারা টাকা পাচ্ছে সেটা বলা যাবে না।
হাটাহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, আমি খোজ নিয়ে উক্ত বিষয়টি দেখবো এবং সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তথ্য দেয়ার জন্য বলবো।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো: ফরিদুল আলম বলেন, অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা সরাসরি সমাজসেবা অফিস থেকে দেয়া হয় না। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মোবাইলে চলে যায়। প্রতি তিন মাস পর পর টাকা দেয়া হয়। এরপরও আপনার কোন তথ্য লাগলে একটি দরখাস্ত আমার অফিসার কে দেন। তারপর তিনি আপনাকে তথ্য দেবেন।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক-৪ (অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা শাখা) এমএম মাহমুদুল্লাহ বলেন, অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা হাতে পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে এই ভাবে যদি টাকা দেয়া হয়, তাহলে অনিয়ম হচ্ছে। এ বিষয়টি আমি দেখছি।
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধাà...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার শাহ সোবাহানিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজে নিম্নমানের ইট à¦...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : বান্দরবানের আলীকদমে দুর্গম সীমান্ত এলাকার চিকিৎসাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের পাশে দাঁড়িয়...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited